প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে খাবারের টেবিলে প্রিয়জন বা সঙ্গীর সাথে সময় কাটানো কেবল সম্পর্কের সুদৃঢ়তাই বাড়ায় না, বরং এটি বিষণ্ণতা দূর করতে এবং মস্তিষ্কের বার্ধক্য প্রতিরোধে দারুণ কার্যকরী। সম্প্রতি এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এ চাঞ্চল্যকর ও ইতিবাচক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গবেষকদের মতে, একা একা না খেয়ে পরিবারের সদস্য বা জীবনসঙ্গীর সাথে বসে নিয়মিত আহার গ্রহণ করলে তা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
চীন ও জাপানের দুটি পৃথক গবেষক দল যৌথভাবে কিছু নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ওপর একটি বিশদ পর্যবেক্ষণ চালিয়েছেন। চীনভিত্তিক ‘ঝেজিয়াং সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’-এর গবেষক শিনই ওয়াং ও তাঁর দলের সাথে এই অনুসন্ধানে যুক্ত ছিলেন টোকিওর একদল বিশেষজ্ঞ গবেষক।
দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণ শেষে গবেষক দলটি নিশ্চিত হয়েছেন যে:
বিষণ্ণতা প্রতিরোধ: প্রিয়জন ও পরিবারের সাথে খাবারের টেবিলে সময় কাটানো মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা প্রতিরোধে প্রাকৃতিকভাবে কাজ করে।
মস্তিষ্কে মানসিক উদ্দীপনা: খাবারের টেবিলে সঙ্গীর সাথে কথা বলা ও ভাব বিনিময়ের বিষয়টি মস্তিষ্কে এক ধরণের বিশেষ ‘মেন্টাল স্টিমুলেশন’ বা মানসিক উদ্দীপনা তৈরি করে।
মস্তিষ্ক যেভাবে দীর্ঘমেয়াদে তরুণ থাকে
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, খাবারের সময়ের এই পারস্পরিক আলাপচারিতা মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়:
হিপোক্যাম্পাস ও টেম্পোরাল লোব সচল রাখা: নিয়মিত প্রিয়জনের সান্নিধ্যে খেলে মস্তিষ্কের মেমোরি সেন্টার বা স্মৃতিধারণকারী অংশ—হিপোক্যাম্পাস এবং টেম্পোরাল লোব-এর মতো অংশগুলো ক্ষয়প্রতিরোধী ও সক্রিয় থাকে।
কগনিটিভ ক্ষয় রোধ: এই মানসিক ও নিউরোলজিক্যাল সক্রিয়তা মানুষকে দীর্ঘমেয়াদে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশের মতো কগনিটিভ (জ্ঞানীয়) ক্ষয় থেকে রক্ষা করে, যা মস্তিষ্ককে দীর্ঘকাল তরুণ রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং বার্ধক্যজনিত ব্রেন মেকানিজমের ক্ষয় রুখতে প্রতিদিন অন্তত একটি বেলা হলেও স্বজনদের সাথে বসে হাসিখুশি পরিবেশে আহার করা উচিত।<