রংপুরের পীরগাছায় এক ব্যক্তিকে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর, শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা, ঘরের মালামাল ভাঙচুর ও নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী শাপলা আক্তার।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, পীরগাছা উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের হরিচরণ পাড়ার শাপলা আক্তারের সঙ্গে মোস্তফা মিয়ার প্রায় ১৫ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৪ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে মোস্তফা মিয়া নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত মাসুদ রানা ও ইব্রাহিম মিয়া লাঠি-সোটা ও রশি নিয়ে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। এরপর পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এতে প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
একপর্যায়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে একটি কাঠালগাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে লাঠি দিয়ে হাত-পা, পিঠ, বুক ও মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করে জখম করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় এক অভিযুক্ত দুই হাত দিয়ে তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তরা পরে ঘরে ঢুকে আলমারিতে থাকা নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা, নিয়ে যান। এছাড়া ঘরের আসবাবপত্র ও টিনের বেড়া ভাঙচুর করে আনুমানিক ১ লাখ ৯০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে শাপলা আক্তার ঘটনাস্থলে গিয়ে তার স্বামীকে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। তিনি রশি খুলতে গেলে তাকেও মারধরের জন্য অভিযুক্তরা উত্ত্যক্ত করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে মোস্তফা মিয়াকে উদ্ধার করেন। তাকে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করেও তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।