কুড়িগ্রামের উলিপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে এনামুল হক সরকার মানিক (৪৫) নামে এক সহকারী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার তবকপুর ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তাঁর স্ত্রী নাসিমা বেগমও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে স্ত্রী নাসিমা বেগমের করা মামলার পর অভিযান চালিয়ে এনামুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে এনামুল হক ও নাসিমা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই এনামুল হক পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২০২২ সালে নাসিমা বেগম তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে আদালতে মামলা করেন। পরে মামলাটি আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এরপর এনামুল হক আবারও ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে নাসিমাকে নির্যাতন শুরু করেন। গত ৬ আগস্ট বিদ্যালয়ে বিরতির সময় তিনি স্ত্রীর কাছে যৌতুকের টাকা দাবি করেন। নাসিমা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর এবং গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় অন্য শিক্ষক ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে নাসিমা বেগমকে উদ্ধার করে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি সোমবার থানায় মামলা করেন।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, ‘যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হলে সোমবার রাতেই অভিযান চালিয়ে এনামুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
উলিপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস ফাতিমা তোগদার বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।