কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গোড়াই আনন্দবাজার এলাকায় এক মাসের ব্যবধানে আবারও সাজেদা বেগম (৫০) নামের সেই নারীকে একটি তেঁতুলগাছের মগডালে দেখা গেছে।
সোমবার (০৮ জুন) সকালে খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা তাকে একনজর দেখতে ভিড় জমান।
সাজেদা বেগম গোড়াই আনন্দবাজার এলাকার মো. আবু সাঈদের স্ত্রী।
জানা গেছে, সোমবার সকালে বাড়ির পাশের তেঁতুল গাছের মগডালে ওই নারীকে বসে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবরটি এলাকায় জানাজানি হলে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ গাছের নিচে জড়ো হন। মানুষের ভিড় দেখে সাজেদা বেগম ডাল বেয়ে নিচে নেমে পুকুরে লাফ দেন। এরপর বুকসমান পানি পেরিয়ে কিনারায় উঠে নিজের মতো চলে যান।
পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, জিনের প্রভাবের কারণেই ওই নারী মাঝেমধ্যে এমন অদ্ভুত আচরণ করে থাকেন। গত ৬ মে তিনি একদিন নিখোঁজ থাকার পর একইভাবে ওই তেঁতুল গাছের মগডাল থেকেই উদ্ধার করা হয়েছিল।
সেদিন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে নামানোর চেষ্টা করলে তিনি উদ্ধারকারীদের দেখে একইভাবে পুকুরে লাফ দিয়েছিলেন। বারবার এমন ঘটনায় এলাকায় কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সাজেদা বেগমের স্বামী আবু সাইদ বলেন, ‘অনেকে আমার স্ত্রীকে মানসিক রোগী মনে করেন; কিন্তু আমরা তাকে রংপুর ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেছি। কোনো নির্দিষ্ট রোগ শনাক্ত হয়নি। কয়েকবার এমন হয়েছে, ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগানো ছিল; কিন্তু পরে তাকে ঘরে পাওয়া যায়নি। আজও বাড়ির গেটে তালা ছিল। তারপরও আমার স্ত্রী অন্যের বাড়ির পুকুরপাড়ের ওই তেঁতুলগাছে উঠে বসে ছিল।’