গ্রীষ্মের তীব্র গরমে লোডশেডিং যেন এক নিত্যদিনের সঙ্গী। আর দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজে থাকা মাছ, মাংস, দুধ বা রান্না করা খাবার নষ্ট হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না।
তবে কিছু স্মার্ট কৌশল জানা থাকলে দীর্ঘ সময় কারেন্ট না থাকলেও ফ্রিজের খাবার সতেজ ও নিরাপদ রাখা সম্ভব।
দরজা বন্ধ রাখা: বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজ বারবার খুলবেন না। দরজা বন্ধ থাকলে ডিপ ফ্রিজ প্রায় ৪৮ ঘণ্টা এবং সাধারণ ফ্রিজ ৪-৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ঠান্ডা ধরে রাখতে পারে।
বরফ বা আইস প্যাক ব্যবহার: ডিপ ফ্রিজে বরফ বা আইস প্যাক বেশি রাখুন। বিদ্যুৎ চলে গেলে এগুলো ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
ফ্রিজ পূর্ণ রাখা: ফ্রিজ খালি থাকলে ভেতরের ঠান্ডা দ্রুত কমে যায়। তাই জায়গা খালি থাকলে পানির বোতল বা জিপলক ব্যাগে পানি ভরে রেখে দিন।
থার্মোস্ট্যাট কমিয়ে রাখা: লোডশেডিংয়ের আগে ফ্রিজের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে এক ধাপ কমিয়ে দিন।
বরফ গলে যাওয়ার পরীক্ষা (কয়েন টেস্ট): দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে বা রাতে কারেন্ট না থাকলে একটি গ্লাসে পানি জমিয়ে বরফ করুন। এরপর তার ওপর একটি কয়েন রেখে দিন। ফিরে এসে যদি দেখেন কয়েনটি নিচে নেমে গেছে, তবে বুঝতে হবে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় বরফ গলে গিয়েছিল এবং খাবার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
কুলার বা থার্মোফ্লাস্কের ব্যবহার
দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের পূর্বাভাস থাকে (যেমন: ৫-৬ ঘণ্টার বেশি), তবে একটি বরফ ভর্তি আইসবক্স বা কুলার ব্যবহার করতে পারেন। ফ্রিজ থেকে অতি প্রয়োজনীয় বা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এমন খাবার (যেমন: দুধ, রান্না করা মাংস) বের করে বরফসহ কুলারে রেখে দিন।
বিদ্যুৎ আসার পর যা করবেন
বিদ্যুৎ আসার সাথে সাথেই সব খাবার খাওয়া শুরু করবেন না। আগে পরীক্ষা করে দেখুন কোন খাবারটি নিরাপদ আর কোনটি নয়।
গন্ধ ও রঙ পরীক্ষা: রান্না করা খাবার, দুধ বা ডাল থেকে কোনো টক গন্ধ আসছে কি না বা রঙ বদলে গেছে কি না খেয়াল করুন। সামান্যতম সন্দেহ হলেও তা ফেলে দিন।
ডিপ ফ্রিজের খাবার রি-ফ্রিজ করা: ডিপ ফ্রিজের কাঁচা মাছ বা মাংস যদি আংশিক গলে যায় কিন্তু ভেতরে তখনও বরফ স্ফটিক (ice crystals) থাকে, তবে তা আবার ফ্রিজারে জমতে দেওয়া নিরাপদ। কিন্তু পুরোপুরি ঘরের তাপমাত্রায় চলে আসলে তা দ্রুত রান্না করে ফেলা উচিত।
রান্না করা খাবার ফুটিয়ে নিন: বিদ্যুৎ আসার পর ফ্রিজের রান্না করা খাবার খাওয়ার আগে অন্তত ১০০°C তাপমাত্রায় ভালো করে ফুটিয়ে বা গরম করে নিন।